শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩রা আশ্বিন ১৪২৮
 
ই-অরেঞ্জের সোহেল রানাকে ফেরত চেয়ে দিল্লি পুলিশকে চিঠি
প্রকাশ: ০২:২১ pm ০৭-০৯-২০২১ হালনাগাদ: ০২:২৯ pm ০৭-০৯-২০২১
 
 
 


পালিয়ে গিয়ে ভারতে আটক হওয়ায় বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিতে অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। গত রোববার পুলিশের এনসিবি শাখা থেকে ভারত এনসিবিকে চিঠি পাঠানো হয়। আজ ফের অতিরিক্ত তথ্য সংযুক্ত করে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ (মঙ্গলবার, ৭সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদরদপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম।

তিনি বলেন,  ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত এনসিবিকে সে দেশে গ্রেপ্তার রাজধানীর বনানী থানার পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানাকে (সাময়িক বরখাস্ত) ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মহিউল ইসলাম বলেন, যদিও আমরা এখন পর্যন্ত দিল্লি এনসিবির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। তবে তারা এ ব্যাপারে নিশ্চয় তথ্য সংগ্রহ করছে। আশা করছি এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাবো।

এনসিবির এআইজি বলেন, গুলশান পুলিশের উপ-কমিশনারের একটি চিঠি ডিএমপি কমিশনারের মাধ্যমে ফরওয়ার্ডিং হয়ে আমাদের কাছে এসেছে। সেখানে বরখাস্ত হওয়া সোহেল রানার ব্যাপারে মামলাসহ নানা তথ্যউপাত্ত রয়েছে। সেগুলো সংযুক্ত করে আমরা আজ (মঙ্গলবার) দুপুরের মধ্যে আরেকটি চিঠি দিল্লি এনসিবিকে পাঠাচ্ছি। যেহেতু সোহেল রানা সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সে দেশের আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তবে আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার, বাংলাদেশ পুলিশ টু ভারত পুলিশ সেটা আমরা করছি। তবে সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে।

গত শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের চ্যাংড়াবান্দায় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে ধরা পড়েন সোহেল রানা। শনিবার ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়।

বিএসএফের হাতে আটক সোহেল রানা গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। বনানী থানার এ পুলিশ পরিদর্শকের বোন ও ভগ্নিপতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ই-অরেঞ্জ’ পরিচালনা করতেন।

গত ১৭ আগস্ট অগ্রিম অর্থ পরিশোধের পরও মাসের পর মাস পণ্য না পাওয়ায় ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করেন প্রতারণার শিকার গ্রাহক মো. তাহেরুল ইসলাম। ওই সময় তার সঙ্গে প্রতারণার শিকার আরো ৩৭ জন উপস্থিত ছিলেন। গ্রাহকের এক হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই মামলা হয়। আসামিরা হলেন- ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, আমানউল্ল্যাহ, বিথী আক্তার, কাউসার আহমেদ এবং পুলিশের বনানী থানার পরিদর্শক সোহেল রানা।

শুরু থেকেই ই-অরেঞ্জের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন তিনি। তবে অরেঞ্জ বাংলাদেশ নামে প্রতিষ্ঠান খুলতে নেওয়া টিআইএন সনদে পরিচালক হিসেবে সোহেল রানার নাম দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিভিন্ন সময়ে আড়াই কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা অপরাধমূলক একাধিক কাজে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএসএফের কর্মকর্তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, সম্ভবত গা ঢাকা দেওয়ার লক্ষ্যে ভারতে প্রবেশ করেছেন সোহেল রানা।

সোহেল রানার অপরাধলব্ধ অর্থসম্পদ আছে কি না, সেই বিষয়ে ইতিমধ্যে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। তাঁরা সোহেল রানার অর্থসম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থায় চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে তথ্য তাঁদের হাতে এসে এখন পৌঁছায়নি।

 
 

আরও খবর

 
 
 
 
 
 
 
 
©newsofbd24.com