শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ই শ্রাবণ ১৪২৮
 
যত টাকাই লাগুক সরকার ভ্যাকসিন সংগ্রহ করবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ০৪:৪২ pm ২৯-০৬-২০২১ হালনাগাদ: ০৪:৫৪ pm ২৯-০৬-২০২১
 
 
 


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা সম্পর্কে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, যত টাকাই লাগুক সরকার প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করবে এবং পর্যায়ক্রমে ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে কোনো প্রয়োজনে দ্রুততার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলেও উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি, সরকার দেশের সকল নাগরিককে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য যত টাকাই লাগুক না কেন, আমরা সেই টাকা দেব।”

বিভিন্ন উৎস থেকে ইতোমধ্যে ১ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার ডোজ টিকা পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, প্রয়োজনীয় টিকা কেনার জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

“যখন ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছিল, তখন থেকেই সরকার ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য পৃথিবীর সমস্ত জায়গায় চেষ্টা শুরু করে। তখন হয়ত ডব্লিউএইচও অনুমোদনও দেয়নি, কিন্তু তার আগেই আমরা… ।

“এটা দুর্ভাগ্য, ভারতে হঠাৎ করোনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেল। তারা এই ভ্যাকসিন রপ্তানি করা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা সাময়িকভাবে কিছুটা সমস্যায় পড়ে গেছি। কিন্তু বর্তমানে আল্লাহর রহমতে আমাদের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এখন আর কোনো সমস্যা হবে না।”

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভারত রপ্তানি বন্ধ রাখায় টিকার সঙ্কটে পড়ে বাংলাদেশ।

পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার মত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও সরকারের হাতে নেই।

এ অবস্থায় সরকারকে অন্য উৎস থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের চেষ্টা করতে হচ্ছে। টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং চীনের উপহার হিসেবে দুই দফায় সিনোফার্মের তৈরি ১১ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে।

সিনোফার্মের কাছ থেকে সরকারি পর্যায়ে দেড় কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কেনার একটি প্রস্তাব সরকার ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে। প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে জুন, জুলাই ও অগাস্ট মাসে ওই টিকা বাংলাদেশ পাবে বলে সরকার আশা করছে।

এছাড়া কোভ্যাক্স থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার তৈরি ২৫ লাখ ডোজ টিকা শিগগিরই দেশে এসে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সংসদ নেতা বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কোন ভ্যাকসিন কোন বয়স পর্যন্ত দেয়া যাবে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তা বিবেচনায় রেখে আমরা স্কুল থেকে শুরু করে সকলে যাতে ভ্যাকসিন পায়, এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে সেই ব্যবস্থা নেবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে সারাবিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত এমন সময় আমরা বাজেট দিয়েছি। একদিকে সারাবিশ্ব করোনায় আক্রান্ত অপরদিকে আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একই সময় বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে পেরেছি। এই তিনটি গৌরবময় অধ্যায়ের মাঝে করোনায় জর্জরিত।’

তিনি বলেন, ‘মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সত্ত্বেও সরকারের পদক্ষেপে আমাদের অর্থনীতি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। আমাদের সরকার সঙ্কটকালে দেশের মানুষের পাশে আছে। মানুষের পাশে থাকবে। জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে জীবন-জীবিকার সুরক্ষা দেয়া এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন হলে দ্রুততার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কররো। মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াবো।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ২০ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও নার্সকে ১০৪ কোটি টাকা বিশেষ সম্মানি দেয়া হয়েছে।’কোন ভ্যাকসিন কোন বয়স পর্যন্ত দেওয়া যাবে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে‑ তা বিবেচনায় রেখে আমরা স্কুল থেকে শুরু করে সবাই যাতে ভ্যাকসিন পায় সে ব্যবস্থা নিয়েছি। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন খুলতে পারে সেই ব্যবস্থা নেবো।

 

 

 

 
 

আরও খবর

 
 
 
 
 
 
 
 
©newsofbd24.com