বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৮
 
খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এটাই তো বেশি : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ০৯:২৭ pm ১৭-১১-২০২১ হালনাগাদ: ০৯:৪২ pm ১৭-১১-২০২১
 
 
 


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে যে বাসায় থেকে চিকিৎসা করতে দেওয়া হচ্ছে, এটাই তো বেশি। যে আপনাকে হত্যা করতে চায়, তাকে আপনি কি ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসবেন। আমাকে মারতে অনেক চেষ্টা করেছে। আপনার পরিবারকে যদি কেউ হত্যা করতে সেই হত্যাকারীদের বিচার না করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিত তাদের জন্য আপনি কী করতেন?’এরপর খালেদার ওপর আমায় মায়া দেখাতে বলেন। আমার হাতে যেটুকু আছে, তার মাধ্যেমে তাকে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেছি।

বুধবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে গণভবনে গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলন এবং ফ্রান্সে দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা জানান।

 তিনি বলেন, ‘ছিয়ানব্বাই সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনে হত্যাকারীকে পার্লামেন্টে বসানো। যেখানে আমি বিরোধীদলীয় নেতা ছিলাম সেখানে বসানো হলো কর্নেল রশীদকে। কে করেছিল? খালেদা জিয়া। খায়রুজ্জামান আসামি, তার মামলার রায় হবে। চাকরি নাই। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সেই আসামিকে চাকরি দিলেন ফরেন মিনিস্ট্রিতে। অ্যাম্বাসেডর করে পাঠালেন। পাশা একজন খুনি। সে সেনাবাহিনীর অফিসার ছিল, মারা গেছে। ক্ষমতায় এসে মৃত ব্যক্তিকে প্রমোশন দিয়ে তার অবসর ভাতা-টাতা সব দিয়ে দিল। আর গ্রেনেড হামলার পর বলে দিল কী! আমি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়ে আত্মহত্যা করতে নিজেই নিজেকে গ্রেনেড মেরেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটালি পাড়ায় বোমা যখন পোঁতে তার আগে তার (খালেদা জিয়া) বক্তৃতা কী ছিল- শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবেন না। বলেছিল কারণ মরেই তো যাব। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে! এতোকিছুর পরেও খালেদা জিয়ার প্রতি দয়া দেখাতে আপনারা বলেন! কেউ এই প্রশ্ন করলে আমার মনে হয় আপনাদের একটু লজ্জা হওয়া উচিত- এই কথাটা অন্তত আমাকে বলার...। যারা আমার বাপ-মা, ভাই-বোন... এমনকি আমার ছোট রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করিয়েছে। তারপরেও আমরা অমানুষ না। অমানুষ না দেখেই আমার এক্সিকিউটিভ অথোরিটি আমার হাতে যতোটুকু আছে ততটুকু দিয়েই তাকে বাসায় থাকার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার। 

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি করে করে এই দেশটাকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। গ্রেনেড হামলায় ২২ জন লোক মারা গেছে, একদিন পার্লামেন্টে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে দেয়নি। এতো বড় অমানবিক যে তাকেই আমি মানবতা দেখিয়েছি। আমার হাতে যেটুকু পাওয়ার সেটুকু দেখিয়েছি। আর কতো চান? এখন সে অসুস্থ। ওই যে বললাম না, রাখে আল্লাহ মারে কে, মারে আল্লাহ রাখে কে... সেটাই মনে করে বসে থাকেন। আমার যেটা করার ছিল করে দিয়েছি।’

 

 
 

আরও খবর

 
 
 
 
 
 
 
 
©newsofbd24.com